ব্যাংক চেক লেখার নিয়ম সঠিকভাবে জেনে নিন তাহলে আজই।

ব্যাংক চেক লেখার নিয়ম

ব্যাংক চেক লেখার নিয়ম সম্পর্কে জানতে অনেকেই গুগলে সার্চ করে থাকেন। কারণ চেক হলো খুবই আদি এবং নির্ভরযোগ্য একটি মাধ্যম অর্থ হস্তান্তরের ক্ষেত্রে। চেক খুবই নিরাপদ এবং সুবিধাজনক একটি মাধ্যম। চেকের মাধ্যমে লেনদেন করলে টাকা চুরি হওয়া বা হারিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে না। যার ফলে চেকের মাধ্যমে টাকা লেনদেন করার প্রচলন বহু কাল থেকেই। বর্তমানে টাকা লেনদেন করার বহু মাধ্যম থাকলেও সব থেকে পুরনো এবং আদি মাধ্যম হচ্ছে ব্যাংক চেক। ব্যাংক চেক টাকা হস্তান্তরের ক্ষেত্রে খুবই সুরক্ষিত একটি মাধ্যম। কারণ ব্যাংক চেকের মাধ্যমে টাকা হস্তান্তর করলে চেকের মধ্যে উল্লেখিত ব্যক্তি ছাড়া অন্য কেউ টাকা উত্তোলন করতে পারবে না। যার ফলে চেক কোনোভাবে হারিয়ে গেলেও কোন সমস্যা নেই।

বর্তমানে মোবাইল ব্যাংকিং, ইন্টারনেট ব্যাংকিং, কার্ডসহ আরও বহু মাধ্যমে টাকা উত্তোলন করা যায়। তবে এখনো অনেকের কাছে চেকই সব থেকে সুরক্ষিত এবং নির্ভরযোগ্য মাধ্যম। যার ফলে এটা নিয়ে সকলেরই আগ্রহ রয়েছে। কিভাবে সঠিক নিয়মে ব্যাংক চেক লিখবেন। কারণ ব্যাংক চেক সঠিকভাবে না লিখলে টাকা উত্তোলনের ক্ষেত্রে উত্তোলনকারী ব্যক্তি বিভিন্ন ভোগান্তির শিকার হতে পারেন। এমনকি ভুল ভাবে লেখার কারণে চেক বাতিলও হতে পারে। তাই আমাদের সকলেরই জেনে রাখা জরুরী ব্যাংক চেক লেখার নিয়ম সঠিক এবং নির্ভুল ভাবে। তাই চলুন জেনে নেওয়া যাক।

ব্যাংক চেক লেখার নিয়ম

ব্যাংক চেক লেখার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবশ্যই অবলম্বন করা উচিত। এবং নিচে দেওয়া সতর্কতা এবং নিয়মকানুন মেনে চেক লিখুন। 

Date:

চেক লেখার ক্ষেত্রে সবার উপরে ডান দিকে Date নামক একটি অপশন দেখতে পাবেন। এবং তার পাশেই তারিখ লেখার জন্য একটি বক্স পেয়ে যাবেন। সাধারণত প্রায় সব ব্যাংকের তারিখ লেখার বক্সটি থাকে “dd/mm/year এটার মতো। এখানে প্রথম দুটি বক্সে আপনাকে তারিখ লিখতে হবে এবং পরবর্তী দুটি বক্সে মাস লিখতে হবে সবশেষে বাকি চারটি বক্সে আপনাকে সাল লিখতে হবে।

Date লেখার সর্তকতা : অবশ্যই যেদিন টাকা উত্তোলন করবে সেদিনটি এখানে উল্লেখ করতে হবে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় অনেকে পরবর্তীতে কাউকে দেওয়ার জন্য অথবা আগে থেকেই চেক লিখে রাখেন। সে ক্ষেত্রে পরবর্তী তিন মাসের মধ্যে যে কোনো একটি তারিখ চেকটি তে লিখুন। এবং এই সময়ের মধ্যে টাকা উত্তোলন করে ফেলতে বলুন। আর একটি চেক পুরোপুরি বাতিল হয়ে যায় ইস্যুর তারিক হতে ১৮০ দিন বা ছয় মাস পেরিয়ে গেলে। তখন আর এই চেকের টাকা উত্তোলন করা যাবে না। তাই এই বিষয়টি অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে। 

Pay To:

এখানে যেই ব্যক্তি বা কোম্পানি চেকে উল্লেখিত টাকা উত্তোলন করবে অথবা যার একাউন্টে হস্তান্তর হবে তার নাম উল্লেখ করতে হবে। টাকা যদি একাউন্টধারী ব্যক্তি নিজে উত্তোলন করে তাহলে এই অপশনে “Self” লিখে দিতে হবে। আর একাউন্টধারী ব্যক্তি ব্যতীত অন্য কারো নাম যদি এই অপশনে লিখতে হয় সেক্ষেত্রে bearer লেখাটিকে কেটে দিতে হবে। অন্যথায় উল্লেখিত ব্যক্তি ছাড়া অন্য কেউ এই চেক ব্যবহার করতে পারে। তাই এ বিষয়টি অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে।

নাম লেখার সতর্কতা : এই অপশনের নাম লেখার পরেও যদি কোনো ফাঁকা জায়গা থাকে তাহলে একটি দাগ টেনে সে জায়গাটিকে ভরাট করে দিন। তাহলে যদি কোনো ভাবে চেকটি হারিয়ে যায় সেখানে অন্য কেউ তার নাম লিখতে পারবে না।

The Sum of Taka:

এই অপশনটিতে আপনারা যে পরিমাণ টাকা হস্তান্তর বা উত্তোলন করবেন সেটির সংখ্যা লিখতে হবে তবে কথায়। যেমন যদি কেউ পাঁচ হাজার টাকা হস্তান্তর বা উত্তোলন করতে চায় এখানে লিখতে হবে “Five Thousand Taka” আর বাংলায় লিখলে “পাঁচ হাজার টাকা”। এভাবেই কথায় টাকার পরিমাণ উল্লেখ করতে হবে।

Tk:

এটি লিখতে হয় একটি বক্সের মধ্যে। বাম পাশে যে পরিমাণ টাকার কথা উল্লেখ করেছিলেন এখানেও সে পরিমাণ টাকা উল্লেখ করতে হবে তবে অংকে। যেমন যদি চেকটি পাঁচ হাজার টাকা উত্তোলনের হয় তাহলে “5000” অথবা বাংলায় লিখলে “৫০০০” লিখতে হবে।

Tk লেখার সতর্কতা: অংকে টাকার পরিমাণ লেখার পর “/=” এটি ব্যবহার করুন এক্ষেত্রে কেউ উল্লেখিত টাকার পরিমানের কোনো পরিবর্তন করতে পারবে না।

Signature:

এরপর চেকের ডান পাশে একদম নিচ অংশে একটি সিগনেচার দেওয়ার অপশন থাকবে। যেখানে একাউন্টধারী ব্যক্তির স্বাক্ষর বা সিগনেচার দিতে হবে। এবং চেকের পরবর্তী পৃষ্ঠায় “Endorse Here” লেখাটির নিচে দুইটি স্বাক্ষর দিতে হবে।

সতর্কতা : সিগনেচার দেওয়ার ক্ষেত্রে অবশ্যই ব্যাংক স্বীকৃত সিগনেচার দিতে হবে অন্যথায় চারটি বাতিল বলে গণ্য হতে পারে। 

কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:

  • চেকের মধ্যে থাকা ৬ থেকে ১২ ডিজিটের নাম্বার টিকে চেক নাম্বার বলা হয়ে থাকে। এটির মাধ্যমে প্রতিটি চেক কে আলাদাভাবে চিহ্নিত করে।
  • চেকে মিশ্র ভাষা ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকতে হবে। বাংলা অথবা ইংরেজি যে কোনো একটি ভাষা ব্যবহার করতে হবে অন্যথায় এটি বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে।
  • ইস্যুর তারিখ থেকে মেয়াদ হয়ে থাকে পরবর্তী 6 মাস বা ১৮০ দিন পর্যন্ত অতঃপর চেকটিকে বাতিল হিসেবে গণ্য করা হয়ে থাকে।

আরও জানুন – এমবি ট্রান্সফার করার নিয়ম এক মোবাইল থেকে অন্য মোবাইল

Similar Posts