মরিচ চাষ পদ্ধতি সম্পর্কে সঠিক উপায়গুলো জেনে নিন আজই

মরিচ চাষ পদ্ধতি

মরিচ চাষ পদ্ধতি সম্পর্কে অনেকেই জানতে চান এবং গুগলে সার্চ করে থাকেন। মরিচ চাষে ভালো ফলনের জন্য অবশ্যই সঠিক মরিচ চাষ পদ্ধতি অবলম্বন করে চাষ করতে হবে। মরিচ আমাদের দেশের খুবই জনপ্রিয় একটি মসলা। এটিকে কাঁচা এবং পাকা দুই ভাবেই খাওয়া হয়ে থাকে। পাকা মরিচকে শুকিয়ে গোড়া করে মসলা হিসেবে ব্যবহার করা হয়। কাঁচা মরিচ কে বিভিন্ন খাবারে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। আচারের প্রধান উপকরণ গুলোর একটি হচ্ছে কাঁচা মরিচ। কাঁচা মরিচ আচারে অনেক ব্যবহার হয়ে থাকে।

সারা বছরই মরিচের প্রয়োজন হয় যার ফলে মরিচের চাহিদা অনেক বেশি থাকে। তাই মরিচ চাষ করতে অনেকেই আগ্রহী হন। আমাদের দেশে যে জেলাগুলোতে সব থেকে বেশি মরিচ চাষ করা হয়ে থাকে সেগুলো হলো বগুড়া, ফরিদপুর, নোয়াখালী,  জামালপুর, মেহেরপুর, বরিশাল, কুমিল্লা, চট্রগ্রাম এবং ময়মনসিং। এগুলোর মধ্যে সবথেকে বেশি চাষ করা হয়ে থাকে বরিশাল জেলায়।

অনেকেই হয়তো মরিচকে শুধুমাত্র একটি মসলা হিসেবে চিনে থাকেন। কিন্তু মরিচ শুধু মসলাই নয় মরিচের রয়েছে অনেক পুষ্টিগুণ এবং স্বাস্থ্য উপকারিতা। যা আমাদের স্বাস্থ্যের অনেক উপকারী। মরিচে রয়েছে ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, ভিটামিন বি6, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, আয়রন সহ আরো অনেক পুষ্টিগুণ। যার রয়েছে বহু স্বাস্থ্য উপকারিতা। মরিচের কিছু স্বাস্থ্য উপকারিতা হলো:

  • কাঁচা মরিচ ভিটামিন এ, সি, ই, কে, বি6, পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম এবং ফাইবারের একটি ভালো উৎস।
  • মরিচে থাকা ভিটামিন সি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে।
  • মরিচে থাকা ক্যাপসাইসিন হজম উন্নত করতে সাহায্য করে।
  • মরিচে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে যা কোষের ক্ষতি রোধ করে এবং প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে।
  • মরিচে থাকা ক্যাপসাইসিন রক্তচাপ কমাতে এবং কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে, যা হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়।
  • মরিচে থাকা ভিটামিন সি ত্বকের কোষের ক্ষতি রোধ করে এবং ত্বককে উজ্জ্বল করতে সাহায্য করে।

মরিচ চাষ পদ্ধতি

মরিচে থাকা অনেক পুষ্টিগুণ ও স্বাস্থ্য উপকারিতা এবং মরিচের অনেক চাহিদা থাকায় অনেকেই মরিচ চাষে আগ্রহী। তাই আমাদের আজকের এই আর্টিকেলে জানতে পারবেন মরিচ চাষ পদ্ধতি সম্পর্কে সকল তথ্য। চলুন জেনে নেওয়া যাক।

জমি এবং জলবায়ু

মরিচ চাষের জন্য অবশ্যই উঁচু দেখে জমি নির্বাচন করতে হবে। নয়তো জমিতে যদি পানি জমে থাকে তা মরিচ গাছের অনেক ক্ষতি করে। উঁচু পানি নিষ্কাশন এবং সেচ ব্যবস্থা রয়েছে এমন জমি নির্বাচন করতে হবে। মরিচ চাষের জন্য সবথেকে উপযুক্ত মাটি হচ্ছে দোআঁশ মাটি। মরিচ হচ্ছে একটি উষ্ণ ও শুষ্ক মৌসুমের ফসল।

মরিচের জাত

বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত মরিচের কোন উন্নত জাত উদ্ভাবিত হয়নি। কিছু স্থানীয় জনপ্রিয় জাত রয়েছে সেগুলো হলো বালিজুরী, বোনা, বাইন, সাইটা হালদা, শিকারপুরী, পাটনাই। আমাদের দেশের সবথেকে বেশি এই জাতের মরিচ গুলো চাষ হয়ে থাকে। মরিচের একটি ভালো দিক হচ্ছে আমাদের দেশে মরিচকে সারা বছরই চাষ করা যায়।

বীজ এবং বীজের পরিমাণ

মরিচকে দুইভাবেই চাষ করা যায়। বীজতলা তৈরি করেও চারা তৈরি করা যায় আবার সরাসরি মূল জমিতে বীজ ছিটিয়ে চারা তৈরি করা যায়। যদি বীজতলা তৈরি করে চারা তৈরি করেন সেক্ষেত্রে প্রতি হেক্টরে ৪০০ থেকে ৬০০ গ্রাম মরিচের বীজ লাগবে। আর সরাসরি যদি বীজ ছিটিয়ে চাষ করতে যান সেক্ষেত্রে প্রতি হেক্টরে ১.৫ কেজি থেকে ২ কেজি বীজ বপন করতে হবে।

চারা তৈরি ও চারা রোপন

মরিচকে আমাদের দেশে বেশিরভাগ বীজতলায় চারা তৈরি করে মূল জমিতে চারা রোপন করা হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে বীজ বপন করার আগে মাটিকে উর্বর করার জন্য প্রতি বর্গমিটারে ১৫ কেজি গোবর সার প্রয়োগ করতে হবে। বীজ বপনের আগে বীজকে ২৪ ঘন্টা পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে। অতঃপর চারার বয়স যখন ৩০ থেকে ৩৫ দিন হবে তখন চারাকে মূল জমিতে রোপন করতে হবে। চারা রোপনের আগে মূল জমির মাটি অবশ্যই মই বা কোন কিছুর সাহায্যে উর্বর করে নিতে হবে। চারা থেকে চারা এবং সারি থেকে সারির দূরত্ব রাখতে হবে ৪০ সেন্টিমিটার।

সার প্রয়োগ

ভালো ফলাফলের জন্য অবশ্যই সঠিক নিয়মে এবং সঠিক সময়ে সার প্রয়োগ করতে হবে। মরিচ চাষের জন্য সারের পরিমাণ হলো ৬০ কেজি গোবর, ৮০০ গ্রাম টিএসপি, ৬০০ গ্রাম এমপি ও ২.৫ কেজি ইউরিয়া সার। গোবর, টিএসপি এবং এমপি সারকে প্রয়োগ করতে হবে চারা রোপনের আগে মাটিকে উর্বর করার জন্য। ইউরিয়া সার প্রয়োগ করতে হবে চারা রোপনের পর ২ কিস্তিতে। দুই ভাগে ভাগ করে প্রথম ভাগ প্রয়োগ করতে হবে চারা রোপনের ৩০ দিন পর এবং দ্বিতীয় ভাগ প্রয়োগ করতে হবে চারা রোপনের ৬০ দিন পর।

সেচ এবং রোগ বালাই

মরিচ চাষের জন্য সেচ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। গ্রীষ্মকালে যখন জমির মাটি বেশি শক্ত হয়ে যাবে তখনই সেচ দিতে হবে। গ্রীষ্মকালে সাধারণত ৫ থেকে ৭ দিন পর সেচ দিতে হবে এবং শীতকালে ১০ থেকে ১২ দিন পর। একই সাথে জমিতে সার প্রয়োগের পরেও সেচ দিতে হবে। তবে অবশ্যই অতিরিক্ত সেচ পরিহার করতে হবে। জমিকে সব সময় আগাছা মুক্ত রাখতে হবে। আর রোগবালাই হলে তা দ্রুত কীটনাশক বা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে গাছকে রক্ষা করতে হবে।

মরিচের ফলন পাওয়া যায় সাধারণত ফুল ধরার ২৫-৩০ দিন পর থেকেই। তখন থেকেই মরিচ খাওয়ার উপযোগী হয়ে যায়। পাকা মরিচের ক্ষেত্রে মরিচ লাল হলেই দেখে খুব সহজেই সংগ্রহ করতে পারবেন। তবে মরিচ সংগ্রহ করার সময় গাছের যেন কোন ক্ষতি না হয় এ বিষয়ে লক্ষ রাখতে হবে এবং গাছ যেনো না ভেঙ্গে যায়।

প্রিয় পাঠক আশা করি আমাদের আজকের এই আর্টিকেল এর মাধ্যমে মরিচ চাষ পদ্ধতি সম্পর্কে আপনি একটি পরিপূর্ণ ধারণা পেয়েছেন আরো এমন সব আর্টিকেল পড়তে আমাদের ওয়েবসাইটটি ভিজিট করুন।

আরও পড়ুন – পেঁপে চাষের আধুনিক পদ্ধতি সম্পর্কে সঠিক উপায়গুলো জানুন