মাশরুম চাষ পদ্ধতি সম্পর্কে সঠিক উপায়গুলো জানুন আজকেই

মাশরুম চাষ পদ্ধতি

মাশরুম চাষ পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে অনেকেরই আগ্রহ রয়েছে। যার ফলে প্রতিনিয়ত মানুষ মাশরুম চাষ পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে গুগলে সার্চ করে থাকেন। বাংলাদেশে মাশরুম চাষ এবং মাশরুমের জনপ্রিয়তা দিন দিন বেড়েই চলেছে। ব্যাঙের ছাতার মতো দেখতে একটি ছত্রাক হচ্ছে মাশরুম। তবে অনেকেই এটিকে উদ্ভিদ মনে করে থাকেন। মাশরুম কোনো উদ্ভিদ নেই এটি এক ধরনের ছত্রাক। আর মাশরুম দেখতে অনেকটা ব্যাঙের ছাতার মত হলেও মাশরুম আর ব্যাংকের ছাতার মধ্যে রয়েছে অনেক পার্থক্য। ব্যাঙের ছাতার মত দেখতে এ ধরনের প্রাকৃতিক মাশরুমের অনেকগুলোই আছে বিষাক্ত এবং অখাদ্য। যা খাওয়া যায় না। তাছাড়া মাশরুম প্রাকৃতিকভাবে খাওয়ার উপযোগী না হওয়ার অন্যতম কারণ হচ্ছে। মাশরুম চাষ করতে হয় সূর্যের আলো থেকে দূরে। যার ফলে আমরা প্রাকৃতিক ভাবে খুব বেশি মাশরুম দেখতে পাই না।

তবে বর্তমানে আমাদের দেশে অনেক জায়গায় বিজ্ঞানসম্মত ভাবে মাশরুম চাষ করা হয়ে থাকে। এভাবে চাষ করা মাশরুম খুবই পুষ্টিকর হয়ে থাকে। বর্তমানে আমাদের দেশের ঢাকা, পার্বত্য চট্টগ্রাম, মধুপুর প্রভৃতি সহ আরো কিছু জায়গায় বাণিজ্যিকভাবে মাশরুমের চাষ এবং বাজারজাত করা হয়ে থাকে। মাশরুম চাষ করে আপনি আপনার পরিবারের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি অতিরিক্ত আয় ও করতে পারেন।

মাশরুম যে শুধু সুস্বাদু তা কিন্তু নয় এর রয়েছে বহু স্বাস্থ্য উপকারিতা এবং পুষ্টিগুণ। মাশরুমে থাকা ফাইবার আমাদের বহু সময় ধরে রাখে পূর্ণ রাখে যা আমাদের ওজন এবং চর্বি কমাতে সাহায্য করে। মাশরুমে থাকা এন্টিঅক্সিডেন্ট আমাদের ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়। মাশরুমে থাকা পটাশিয়াম আমাদের রক্ত চলাচল সচল রাখে যার ফলের হৃদরোগের ঝুঁকি কমে যায়। এগুলো ছাড়াও ভিটামিন, খনিজ আরো বহু পুষ্টি উপাদান রয়েছে মাশরুমে যা আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী।

মাশরুম চাষ পদ্ধতি

মাশরুম চাষে ভালো ফলাফল পেতে হলে অবশ্যই আপনাকে সঠিক নিয়মে মাশরুম চাষ করতে হবে। মাশরুম আপনি খুব সহজে আপনার বসতবাড়িতেই খুবই ছোট পরিসরে চাষ করা শুরু করতে পারেন।

মাশরুমের জাত

সারা পৃথিবীতে মাশরুমের কয়েক হাজার জাত রয়েছে। আমাদের দেশেও বেশ কয়েকটি জাত রয়েছে। তবে আমাদের দেশে বাণিজ্যিকভাবে এবং সব থেকে বেশি চাষ করা হয়ে থাকে  ঝিনুক মাশরুম যার ইংরেজি নাম “Oyster mushroom”। এটি আমাদের দেশের সবথেকে জনপ্রিয় মাশরুমের জাত। যা আমাদের দেশে সবথেকে বেশি চাষ করা হয়ে থাকে।

উপকরণ ও নিয়ম

মাশরুম চাষ খুবই সহজ। এটি চাষ করতে খুব বেশি কিছুর প্রয়োজন পড়ে না। এটি চাষ করার জন্য আপনার প্রয়োজন হবে। পলিব্যাগ, খড়, এবং মাশরুমের বীজ যা আপনি খুব সহজেই বাজারে, মাশরুম প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে কিংবা অনলাইন শপে পেয়ে যাবেন।

মাশরুম চাষের জন্য শুরুতেই খড়গুলোকে আধা ইঞ্চি থেকে ১ ইঞ্চি করে কেটে নিন। খড় কাটা শেষ হলে এটিকে খুব ভালোভাবে পরিষ্কার করে নিতে হবে। এটি পরিষ্কার করতে পারেন দুইভাবে প্রথমত এটিকে ২০ মিনিট গরম পানিতে ফুটিয়ে নিতে পারেন অথবা চুন বা ব্লিচিং যুক্ত পানিতে ২৪ ঘন্টা ভিজিয়ে রাখুন। ফোটানোর পর বা ভিজিয়ে রাখার পর খড় থেকে পানি গুলোকে এমন ভাবে ছাড়িয়ে নিন যাতে কোনো পানি না থাকে। এবং চাপ দিলে যেনো কোনো পানি বের না হয়। তবে একদম রোদে শুকানোর দরকার নেই। যেন সামান্য ভিজে ভাব থাকে।

এভাবে খড় প্রস্তুত করার পর এবার পলিব্যাগের ২ ইঞ্চি খর বরে নিন। ২ ইঞ্চি ঘর দেওয়ার পর  পলিব্যাগের ধারে মাশরুমের বীজ দিয়ে দিয়েন। অতঃপর এটির উপর আবার ২ ইঞ্চি খড় দিন। এবং আবার মাশরুমের বীজ দিয়ে দিন। এরকম করে প্রত্যেকটি ব্যাগে ৭ থেকে ৮ স্তর করুন। এমনটা করার সময় প্রত্যেকবার খড়গুলোকে এমন ভাবে চাপিয়ে দিন যাতে ভেতরে কোন হাওয়া না থাকে। এবং করা শেষ হয়ে গেলে পলিথিনের মুখটা বন্ধ করে দিন কয়েকটা প্যাঁচ দিয়ে।

শেষে দিয়ে পলি বেগে ছোট ছোট করে ১০ থেকে ১২ টি ছিদ্র করে দিন। এই ছিদ্র দিয়ে যেন কোনো রকম ধুলাবালি না ঢুকতে পারে এ কারণে প্রত্যেকটি ছিদ্রতে তোলা দিয়ে ঢেকে দিন। তুলা দেওয়ার ফলে এতে কোন ধুলাবালি ঢুকতে পারবে না পাশাপাশি এটার বাতাস চলাচল ও ঠিক থাকবে। এবার ব্যাগটিকে এমন একটি অন্ধকার জায়গায় রেখে দিন যেখানে সূর্যের আলো পৌঁছাবে না। এভাবে ৭ থেকে ১০ দিন রেখে দিন। তবে জায়গাটি অন্ধকার হলেও যেন এটিতে বাতাস চলাচল ঠিক থাকে এবং কোন পোকামাকড় না থাকে এ ব্যাপারটি লক্ষ্য রাখতে হবে। কারণ পোকামাকড় বিশ্বাস করে মাছি মাশরুম চাষে খুবই ক্ষতি করে থাকে।

তারপর কিছুদিন পরই লক্ষ্য করবেন ব্যাগের যে যে জায়গায় বীজ রেখেছিলেন সেই জায়গাগুলোতে এক ধরনের সাদা আস্তরন তৈরি হচ্ছে এগুলোকে বলা হয়ে থাকে মাইসেলিয়াম। তার কিছুদিন পরে লক্ষ্য করবেন পলিব্যাগের সব জায়গায় সাদা এই মাইসেলিয়াম তৈরি হচ্ছে। তখন আপনাকে পলিব্যাগের ছিদ্রতে থাকা তোলা গুলো সরিয়ে নিতে হবে। এবং আরো নতুন করে কিছু ছিদ্র করে দিতে হবে। মাইসেলিয়াম তৈরি হয়ে গেলে ব্যাগ টিকে আর অন্ধকারে রাখার প্রয়োজন নেই। ব্যাগ টিকে অন্ধকার থেকে বের করে এবার আলো পৌঁছায় এমন একটি জায়গায় রাখুন। তবে সরাসরি সূর্যের আলোতে রাখা যাবে না। ঘরের ভেতর যেমন আলো পৌঁছায় এমন আলোর ভেতরে রাখতে হবে। বাতাসের আর্দ্রতা বিবেচনা করে প্রয়োজনে মাঝে মাঝে পানি দিয়ে স্প্রে করুন। তারপর কিছুদিনের ভিতরেই লক্ষ্য করবেন মাশরুমের পিনহেড উঁকি দেওয়া আরম্ভ করেছে। সাধারণত ২৫ থেকে ৩০ দিনের মধ্যেই মাশরুম খাওয়ার উপযোগী হয়ে যায়। আর প্রত্যেকটি ব্যাগে ফলন পাওয়া যায় তিন থেকে চারবার।

প্রিয় পাঠক আশা করি আমাদের আজকের এই আর্টিকেলের মাধ্যমে মাশরুম চাষ পদ্ধতি সম্পর্কে আপনি একটি পরিপূর্ণ ধারণা পেয়েছেন মাশরুম চাষ পদ্ধতি সহ এমন আরো পোস্ট পেতে আমাদের ওয়েবসাইটটি ভিজিট করুন।

আর পড়ুন – করলা চাষ পদ্ধতি সম্পর্কে সঠিক উপায়গুলো জেনে নিন আজই

Similar Posts