রড কত প্রকার ও রডের বিভিন্ন প্রকার বিষয়ে জানুন আজকেই

রড কত প্রকার

রড কত প্রকার এটা সম্পর্কে জানতে প্রতিনিয়ত মানুষ গুগলে সার্চ করে থাকেন। রড কে বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। একটি ভবনের ১০ থেকে ১২ শতাংশ খরচ রডের পেছনে যায়। তাই ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে রড কত প্রকার এবং কি কি এ বিষয়ে জেনে রাখা জরুরী। ভালো রড চেনার ক্ষেত্রে তিনটি বিষয় মাথায় রাখতে হবে। ভালো রডের গায়ে কোনা প্রকার ফাটা থাকবে না এবং ভালো রডকে বাড়ি দিলে ঝুরঝুর করবেনা।

বাংলাদেশে বর্তমানে সমস্ত রড উৎপাদনকারী কোম্পানির রড উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে বছরে প্রায় ৯০ লাখ মেট্রিক টন। তবে এর বিপরীতে রডের চাহিদা রয়েছে ৫৫ লাখ মেট্রিক টন।

রডকে, ইঞ্জিনিয়ারিং ভাষায় রিইনফোর্সমেন্ট বলা হয়। সহজ ভাষায় অনেকে এটাকে দালানের হাড় বলে। চলুন জেনে নেওয়া যাক রড সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।

আমাদের দেশে পাওয়া রডগুলিকে প্রযুক্তিগতভাবে কার্বন ইস্পাত বা কার্বন স্টিল বলা হয়ে থাকে। ইংরেজিতে একে সাধারণত Rebar বলা হয়। রড কে সাধারণত বিল্ডিং এর উৎপন্ন চাপ এবং স্ট্রেস থেকে রক্ষা করতে ব্যবহার করা হয়ে থাকে । এবং এই চাপ খুঁজে বের করার জন্য ইঞ্জিনিয়ারদের কিছু দুর্দান্ত হিসাব রয়েছে। সেই অনুযায়ী রডের আকার নির্ধারণ করা হয়। অতএব, একটি বিল্ডিং নির্মাণের আগে আপনার বিল্ডিংয়ের জন্য প্রয়োজনীয় রডের পরিমাণ এবং রড নির্ধারণের দায়িত্ব একজন ভালো ইঞ্জিনিয়ারের উপর দিন। কোনো মিস্ত্রি কে নয়।

রড কত প্রকার

রড কত প্রকার সরাসরি এটার উত্তর দেওয়া কঠিন। কারণ রোড বিভিন্ন আকারের বিভিন্ন গ্রেড এর হয়ে থাকে। তাই আপনি কিসের উপর ভিত্তি করে জানতে চাচ্ছেন রড কত প্রকার সেটা জানা জরুরী। আমাদের আজকের এই আর্টিকেল এর মাধ্যমে এ বিষয়ে একটি পরিপূর্ণ ধারণা পেয়ে যাবেন। চলুন জেনে নেওয়া যাক।

গ্রেড বা মানের উপর ভিত্তি করে:

  • বাংলাদেশে বেশ কিছু গ্রেড বা মানের রড রয়েছে 
  • যেমন ৪০ গ্রেড, ৬০ গ্রেড, এসটিএমএম ৬১৫, এসটিএমএম ৭০৬, বি৫০০সি ডব্লিও এবং বি৫০০ডি ডব্লিও আর।
  • বাংলাদেশের সাধারণত গ্রেডের উপর ভিত্তি করে উপরে উল্লেখিত এই ছয় প্রকারের রড পাওয়া যায়।
  • এবং সব থেকে বেশি ব্যবহার হয়ে থাকে ৪০ গ্রেড এবং ৬০ গ্রেড।

৪০ গ্রেড রডের টান সহ্য করার ক্ষমতা ৪০,০০০ psi (পাউন্ড প্রতি বর্গ ইঞ্চি)। এটি সাধারণত ব্যবহার করা হয়ে থাকে ছোট ভবন, রাস্তাঘাট এবং পুল নির্মাণের ক্ষেত্রে। এটার চাপ সহ করার ক্ষমতা তুলনামূলক কম অন্যান্য রডের তুলনায়। যার ফলে এটার দাম ও অন্যান্য রডের তুলনায় কম।

৬০ গ্রেড রডের টান সহ্য করার ক্ষমতা ৬০,০০০ psi (পাউন্ড প্রতি বর্গ ইঞ্চি)। এটিকে সাধারণত ব্যবহার করা হয়ে থাকে বড় ভবন, কলকারখানা এবং বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের ক্ষেত্রে। এটার চাপ সহ্য করার ক্ষমতা তুলনামূলক বেশি। ৪০ গ্রেডের তুলনায় ৬০ গ্রেড রডের শক্তি অনেক বেশি এবং অনেক বেশি টেকসই।

আকারের উপর ভিত্তি করে:

আকারের উপর ভিত্তি করে রড সাধারণত তিন প্রকার। ছোট রড, মাঝারি রড এবং বড় রড।

  • ছোট রডের ব্যাস হয়ে থাকে ৬ মিলিমিটার থেকে ১৬ মিলিমিটার। এটিকে ছোট নির্মাণ কাজে ব্যবহার করা হয়ে থাকে।
  • মাঝারি রডের ব্যাস হয়ে থাকে ১৮ মিলিমিটার থেকে ৩২ মিলিমিটার। মাঝারি রডকে সাধারণ নির্মাণ কাজে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। 
  • বড় রডের ব্যাস হয়ে থাকে ৩২ মিলিমিটার এর বেশি। এটিকে সাধারণত বড় এবং জটিল নির্মাণ কাজে ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

রড ব্যবহারের নির্দেশিকা:

নির্মাণ কাজের উপর ভিত্তি করে রডের প্রকার নির্বাচন করা হয়ে থাকে। তাই অবশ্যই রড নির্বাচনের দায়িত্ব একজন ভালো ইঞ্জিনিয়ার কে দিন। 

  • ৩ এবং ৪ সুতা রড সাধারণত বাড়ি বা ভবনের ছাদের রড হিসেবে ব্যবহার করা হয়ে থাকে।
  • আর ৫ সুতা বা তার ততোধিক রড সাধারণত কলাম, ফাউন্ডেশন এবং বিমে ব্যবহার করা হয়ে থাকে।
  • অন্যদিকে ২ এবং ৩ সুতা রড ব্যবহার হয়ে থাকে টাই রড হিসেবে বিম বা কলামে।

প্রিয় পাঠক আশা করি আমাদের আজকের এই আর্টিকেলের মাধ্যমে আপনারা খুব ভালোভাবে জানতে পেরেছেন রড কত প্রকার আরো এমন সব আর্টিকেল পেতে আমাদের ওয়েবসাইটটি ঘুরে দেখুন।

আরও জানুন – ১ টন রড কত কেজি বাংলাদেশে পরিমাপে। কত কেজিতে ১ টন?

Similar Posts