হাইব্রিড বেগুন চাষ পদ্ধতি সম্পর্কে সঠিক উপায় জানুন আজই।

হাইব্রিড বেগুন চাষ পদ্ধতি

হাইব্রিড বেগুন চাষ পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে অনেকেরই আগ্রহ রয়েছে। বেগুন বাংলাদেশের খুবই জনপ্রিয় টি সবজি। বেগুন দিয়ে তৈরি করা যায় মজার মজার সব খাবার। বেগুনের তৈরি বেগুনি ছোট বড় সকলেরই পছন্দ। বেগুন দিয়ে সুস্বাদু খাবার তৈরি করা ছাড়াও। বেগুনের রয়েছে বহু স্বাস্থ্য উপকারিতা। পুষ্টিগুণে ভরপুর একটি সবজি হচ্ছে বেগুন। বেগুনে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং ফাইবার থাকে যা রক্তে খারাপ কোলেস্টেরল (LDL) কমাতে এবং ভালো কোলেস্টেরল (HDL) বাড়াতে সাহায্য করে।

এটি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতেও সহায়তা করে, যা হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়। একই সাথে বেগুনে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকে যা হজমশক্তি বৃদ্ধিতে খুবই কার্যকারী। এছাড়াও বেগুন ভিটামিন সি এবং অন্যান্য অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের একটি ভাল উৎস, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে এবং ঠান্ডা লাগা এবং ফ্লুর মতো সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে। এগুলো ছাড়াও বেগুন আরো বহু স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে। যার ফলে বেগুনের চাহিদা বরাবরই বেশি। তাই প্রতিনিয়ত মানুষ।বেগুন চাষ পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে গুগলে সার্চ করে থাকেন। তাই আমাদের আজকের এই পোস্টে আপনারা জানতে পারবেন হাইব্রিড বেগুন চাষ পদ্ধতি সম্পর্কে সব কিছু।

হাইব্রিড বেগুন চাষ পদ্ধতি

হাইব্রিড বেগুন চাষের বেশ কিছু সুবিধার কারণে অনেকেই আমাদের দেশী বেগুন চাষের থেকে হাইব্রিড বেগুন চাষ বেশি প্রাধান্য দিয়ে থাকেন। এটার অবশ্য যথেষ্ট কারণও আছে। আমাদের দেশী বেগুনের তুলনায় হাইব্রিড বেগুনে তুলনামূলক বেশি ফলন পাওয়া যায়। একই সাথে হাইব্রিড বেগুনের রয়েছে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দেশী বেগুনের চেয়েও বেশি। যার ফলে চারায় রোগবালাই কম হয় এবং ফলনও বেশি হয়। তাই আমাদের আজকের এই পোস্টে আপনারা জানতে পারবেন হাইব্রিড বেগুন চাষের সবকিছু। 

হাইব্রিড বেগুনের জাত

বাংলাদেশে হাইব্রিড বেগুনের বেশ কিছু জনপ্রিয় জাত রয়েছে। তবে অবশ্যই বেগুনের জাত নির্বাচন করতে হবে। আপনার জমি এবং জমির মাটি পরীক্ষা করে। সঠিক জাত নির্বাচন করতে হবে। আপনাদের সুবিধার্থে বেশ কিছু জনপ্রিয় হাইব্রিড বেগুনের জাত উল্লেখ করা হলো:

বারি বেগুন ১: এটি খুবই উচ্চ ফলনশীল একটি জাত যা খুবই লম্বা এবং বেগুনি রঙের হয়ে থাকে। এটি রোগ প্রতিরোধী এবং বিভিন্ন আবহাওয়ায় ভালোভাবে উৎপাদন করে।

বারি বেগুন ৩: এটি আরো একটি জনপ্রিয় জাত যা বড় এবং গোলাকার হয়ে থাকে। এটি খুবই সুস্বাদু এবং বিভিন্ন রান্নায় ব্যবহার করা যেতে পারে।

বারি বেগুন ৪ (কাজলা): এটি খুবই লম্বা এবং সরু হয়ে থাকে এটিও বেগুনি রঙের। এটি রোগ প্রতিরোধী এবং খরা সহনশীল।

হাইব্রিড বেগুন ব্ল্যাক বেরি: এটি বাংলাদেশের একটি নতুন জাতের বেগুন যা লম্বা এবং একটু কালচে বেগুনি হয়। এটি উচ্চফলনশীল এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পন্ন।

হাইব্রিড বেগুন রাজা:এটিও বড়, গোলাকার বেগুনি রঙের ফল দেয়। এটি খুবই সুস্বাদু।

বাংলাদেশে অনেকগুলো হাইব্রিড বেগুনের জাতের মধ্যে এই জাত গুলো সবথেকে বেশি জনপ্রিয়। কারণ এগুলো রয়েছে দেশী বেগুনের তুলনায় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেক বেশি। একই সাথে এগুলো সাইজে বড় এবং দেশী বেগুনের তুলনায় ফলনও বেশি হয়। তাই আপনার জমিতে কোন জাতের বেগুন ভালো ফলন হবে সেটা আপনার জমির মাটি পরীক্ষা করে নির্বাচন করুন।

চারা তৈরি এবং রোপন

বেগুন চাষের সঠিকভাবে সঠিক নিয়মে চারা তৈরি করা খুবই জরুরী। এজন্য বাজার থেকে উন্নত মানের হাইব্রিড বেগুনের বীজ সংগ্রহ করুন। তারপর একটি বীজতলা তৈরি করুন। বীজ তলার মাটি হতে হবে ঝরঝরে এবং জৈব পদার্থ সম্পন্ন। অতঃপর মাটিতে পাতলা করে বীজ বপন করুন। বীজ বপনের পর হালকা করে মাটি ছিটিয়ে দিন। এবং নিয়মিত সেচ দিন। যাতে করে মাটি আর্দ্র থাকে। তারপর কিছুদিনের মধ্যেই চারা গজালে দুর্বল চারা গুলোকে তুলে ফেলুন। এবং পাতলা করে দিন। নিয়মিত আগাছা দমন করুন এবং সেচ দিন।

অতঃপর চারার বয়স যখন ৩০ থেকে ৪৫ দিন হবে তখনই চারা জমিতে রোপন করতে হবে। হাইব্রিড বেগুন চাষের জন্য জমির মাটি হতে হবে ঝরঝরে। এবং জৈব পদার্থ সম্পন্ন। জমি প্রস্তুত হয়ে গেলে লাইন পদ্ধতি ব্যবহার করে নির্ধারিত দূরত্ব রেখে চারা রোপন করুন। চারা রোপনের ক্ষেত্রে গর্তের গভীরতা হতে হবে ১৫ থেকে ২০ সেন্টিমিটার। প্রতিটি গর্তে অবশ্যই একটি করে চারা রোপণ করতে হবে।

যারা রোপন শেষে নিয়মিত আগাছা দমন, সার প্রয়োগ, সেচ এবং রোগবালাই থেকে গাছকে রক্ষা করুন।

সার প্রয়োগ পদ্ধতি

হাইব্রিড বেগুন চাষের সঠিক নিয়মে সার প্রয়োগ করা খুব জরুরী। ভালো ফলন পেতে হলে অবশ্যই সঠিক সময়ে সঠিক নিয়মে সার প্রয়োগ করতে হবে। তবে সারের পরিমাণ নির্ভর করে আপনার জমির মাটির উপর। তাই সার প্রয়োগের আগে জমির মাটি পরীক্ষা করা উচিত। এত করে মাটিতে থাকা পুষ্টির অভাব সম্বন্ধে জানা যাবে এবং সঠিক সার সঠিক পরিমাণ প্রয়োগ করা যাবে। একটি সাধারণ নির্দেশিকা হলো।

জৈব সার প্রতি বিঘায়:

গবীর সার: ৮-১০ টন

কম্পোস্ট সার: ৪-৬ টন

সবুজ সার: ০.৮-১.২ টন

রাসায়নিক সার প্রতি বিঘায়:

ইউরিয়া: ৪৮-৬০ কেজি (৩ ভাগে ভাগ করে প্রয়োগ করতে হবে)

টিএসপি: ৩২-৪০ কেজি (১ বার প্রয়োগ)

এমপিকে: ৪০-৪৮ কেজি (২ ভাগে ভাগ করে প্রয়োগ)

জমির মাটি তৈরীর সময় জৈব সার প্রয়োগ করতে হবে। এতে করে মাটির উর্বরতা বাড়বে এবং মাটি ঝুরঝুরে থাকবে এবং রাসায়নিক সার ব্যবহার করতে হবে চারা রোপনের পর। 

ইউরিয়া সারকে তিন ভাগে ভাগ করে প্রথম ভাগ প্রয়োগ করতে হবে চারা রোপনের ছয় থেকে আট দিন পর একবার। ফুল ধরার পর একবার এবং ফল ধরার পর একবার। আর টিএসপি চাষের সময় একবার প্রয়োগ করতে হবে। এবং এমপি সার কে দুই ভাগ করে প্রথম ভাগ চারা রোপনের ছয় থেকে আট দিন পর একবার এবং ফল ধরার সময় আরেকবার।

সেচ পদ্ধতি

হাইব্রিড বেগুন চাষের ক্ষেত্রে সঠিক নিয়মে সেচ দেওয়া খুবই জরুরী। মাটির আর্দ্রতা ঠিক রাখার জন্য নিয়মিত সেচ দিতে হবে। মাটি শুষ্ক হয়ে গেলেই সেচ দিতে হবে। চারা রোপনের ছয় থেকে আট দিন পর সেচ দিতে হবে। ফুল এবং ফল আসার পর সেচ দিতে হবে। তবে অবশ্যই পানি নিষ্কাশন এর ব্যবস্থা রাখতে হবে। এবং অতিরিক্ত সেচ এড়িয়ে চলতে হবে। এবং বৃষ্টি আসলে সেচ বন্ধ রাখতে হবে। সবসময় অবশ্যই সকাল এবং বিকেলের সেচ দেওয়া উচিত।

ফসলের পরিচর্যা:

হাইব্রিড বেগুন চাষের ক্ষেত্রে ফসলের পরিচর্যা করা বেশ জরুরী তবেই উচ্চফলন পাওয়া যাবে। এজন্য কিছু পরিচর্যা হলো:-

  • নিয়মিত সেচ দিতে হবে। 
  • নিয়মিত আগাছা দমন করতে হবে। 
  • মাটি আলসা করতে হবে।
  • সঠিক নিয়মে সার প্রয়োগ করতে হবে। 
  • পোকামাকড় এবং রোগবালাই থেকে ফসলকে রক্ষা করতে হবে

প্রিয় পাঠক আশা করি আমাদের আজকের এই পোষ্টের মাধ্যমে আপনারা জানতে পেরেছেন সঠিক নিয়মে হাইব্রিড বেগুন চাষ পদ্ধতি সম্পর্কে। আরো এমন সব আর্টিকেল পেতে আমাদের ওয়েবসাইটে ভিজিট করুন।

আরও জানুন – জেনে নিন সঠিক উপায়ে হাইব্রিড ভুট্টা চাষ পদ্ধতি আজকেই

Similar Posts